Blog

  • বাংলাদেশ-জাপান ৬ দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি

    বাংলাদেশ-জাপান ৬ দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের সরকারি জাপান সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিল আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর পাশাপাশি দুটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৪৬.৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন) ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি।

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত ২৬ অক্টোবর (সোমবার) চার দিনের সফরে জাপানে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরকালে অর্জিত বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় সাফল্যের বিষয় বিস্তারিত তথ্য জানান উপ প্রেস সচিব শাহাদাত স্বাধীন। আগামী ২৯ অক্টোবর এই সফর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

    স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় দলিলগুলোর মধ্যে সামুদ্রিক ও উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন, কৃষি, কর্মসংস্থান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি আধুনিক টহল জাহাজ সরবরাহের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এজন্য বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ ২.১২ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১৩.৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) অনুদান দেওয়ার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

    বাণিজ্যিক ও দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করতে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মধ্যে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নসংক্রান্ত একটি সহযোগিতা স্মারক (এমওসি) সই হয়েছে।

    আরও পড়ুন: টানা তৃতীয়বার বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলার হলেন লামিন ইয়ামাল

    একই সঙ্গে দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ‘এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’ (ইএসডিপি) নিয়ে একটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে পৃথক দুটি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    পরিবেশ সুরক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি আগ্রহপত্র (এলওআই) হস্তান্তরিত হয়েছে।

    জাপানের দেওয়া ঋণের বড় অংশই ব্যবহৃত হবে দুটি সুনির্দিষ্ট প্রকল্পে। এর মধ্যে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন প্রকল্পে ১৫.৮৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১০০.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) এবং উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে ৩০.৬৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১৯৪.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণ সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উন্নত প্রযুক্তির হস্তান্তর, কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং সার্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রসারের বিষয় প্রাধান্য পায়।

    প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধিদল এতে অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • টানা তৃতীয়বার বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলার হলেন লামিন ইয়ামাল

    টানা তৃতীয়বার বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলার হলেন লামিন ইয়ামাল

    মৌসুমজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে আবারও বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলারের স্বীকৃতি পেলেন বার্সেলোনার স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল। লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে আয়োজিত জমকালো এক অনুষ্ঠানে তার হাতে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারটি তুলে দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে প্রবর্তিত এই কোপা ট্রফিটি এখন পর্যন্ত ইয়ামাল ছাড়া অন্য কেউ একাধিকবার জেতার কৃতিত্ব দেখাতে পারেননি। ২০১৮ সাল থেকে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘কোপা ট্রফি’।

    আরও পড়ুন: হেলল test

    বয়স মাত্র ১৯ হলেও ইয়ামাল গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন ৫৭টি ম্যাচে। এই ম্যাচগুলোতে তিনি ২৫টি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ২০টি গোল। বার্সেলোনার লা লিগা, কোপা দেল রে এবং স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ে বড় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি স্পেনের হয়েও তিনি ছিলেন অসাধারণ। এমনকি ব্যালন ডি’অর বর্ষসেরা ফুটবলারের লড়াইয়েও জায়গা করে নিয়েছেন এই তরুণ তুর্কি। গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৫৭ ম্যাচে ২৫টি গোল ও ২০টি অ্যাসিস্ট করেন ১৯ বছর বয়সি ইয়ামাল।

    আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান ৬ দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি

    আরও পড়ুন: নির্বাচনে জিততে ইরানের হামলার ভয় দেখাচ্ছেন নেতানিয়াহু

    পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ইয়ামাল বলেন, এখানে উপস্থিত হয়ে এই ট্রফি গ্রহণ করা অত্যন্ত সম্মানের। তৃতীয়বারের মতো এটি জিততে পেরে তিনি নিজের ক্লাব এবং জাতীয় দলকে ধন্যবাদ জানান। তবে বিনয়ী ইয়ামাল মনে করেন, এই পুরস্কারটি তার সতীর্থ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির পাওয়া উচিত ছিল। তার মতে, কুবার্সি দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত খেলছেন, তাই এই ট্রফিটির দাবিদার তিনিই। তিনি বলেন ‘আমার সতীর্থ কুবার্সি এটা জিতলে আমার ভালো লাগত। সেই পুরস্কার তিনি পাবেন কিনা- তা সময়ই বলে দেবে। সে বেশ অনেক দিন ধরে দারুণ একটি স্তরে খেলছে।’।

    উল্লেখ্য, একই অনুষ্ঠানে নারী বিভাগে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন বার্সেলোনার ভিকি লোপেস। গত মৌসুমে মাঠের পারফরম্যান্সের বিচারে বিচারকদের প্যানেল এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

  • নির্বাচনে জিততে ইরানের হামলার ভয় দেখাচ্ছেন নেতানিয়াহু

    নির্বাচনে জিততে ইরানের হামলার ভয় দেখাচ্ছেন নেতানিয়াহু

    ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনে জনমত জরিপে পিছিয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ইরানের আক্রমণের ভীতি ছড়িয়ে ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আগামী মঙ্গলবারের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আগে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তেল আবিবে পারমাণবিক বিস্ফোরণের একটি ভীতিকর ছবি প্রকাশ করেছেন। ভোটারদের সতর্ক করে তিনি বলেছেন, নির্বাচনে তাকে ভোট না দিলে দেশ ভয়াবহ পারমাণবিক ঝুঁকির মুখে পড়বে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, যারা নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত, তাদের বর্তমান বিরোধী দলকে ভোট দেওয়ার আগে পুনরায় ভাবা উচিত। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যারা নিজেদের অস্তিত্ব, পরিবার ও প্রিয়জনদের নিয়ে চিন্তা করেন, বিরোধীদের ভোট দেওয়ার আগে তাদের হাত কাঁপা উচিত।’।

    আরও পড়ুন: টানা তৃতীয়বার বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলার হলেন লামিন ইয়ামাল

    নেতানিয়াহুর এই কর্মকাণ্ড নিয়ে ইসরাইলি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামিরের সঙ্গে তার বিরোধের তথ্য সামনে এসেছে। চ্যানেল ১২-এর খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেনাবাহিনীর ওপর চাপ প্রয়োগ করে এমন কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন নেতানিয়াহু, যা সংবেদনশীল এই সময়ে ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। যদিও সেনাপ্রধান জামির লিখিত নির্দেশনা চেয়েছিলেন, কিন্তু নেতানিয়াহু ও তার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা থাকার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছে। ওই নির্দেশনার কারণে সংবেদনশীল সময়ে ইরানের ভুল হিসাব-নিকাশ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্দেশনার বিস্তারিত উল্লেখ না করে জামির সেটি লিখিতভাবে তার কাছে উপস্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

    আরও পড়ুন: পাঠ্য বইয়ের বিতর্কে এনসিটিবি’র ৯ কর্মকর্তা বদলি

    এদিকে সিএনএন ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযানে রাজি করানোর চেষ্টা চালিয়েছেন নেতানিয়াহু। তবে ট্রাম্প মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের পদক্ষেপে অনীহা প্রকাশ করেছেন। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের বিবৃতিতে এই প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত বা অস্বীকার না করে কেবল জানিয়েছে, সব সিদ্ধান্ত জাতীয় নিরাপত্তা ও পেশাগত বিবেচনার ভিত্তিতে নেওয়া হয়। এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসেও একই ধরনের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তারা শুধু বলেছে, বাহিনীর সিদ্ধান্তগুলো একান্তভাবে নিরাপত্তা, পেশাগত, বস্তুনিষ্ঠ ও জাতীয় বিবেচনার ভিত্তিতে নেওয়া হয়।

    উল্লেখ্য যে, গত মার্চ মাসে নেতানিয়াহু নিজেই দাবি করেছিলেন যে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্মিলিত হামলায় ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে। সে সময় তিনি সেই সাফল্যকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকবে এমন ঐতিহাসিক বিজয় বলে অভিহিত করেছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তার সেই বক্তব্যের স্পষ্ট অমিল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৫ সালে ইরানের বিরুদ্ধে অর্জিত সাফল্যকে তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে থাকবে এমন ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবেও বর্ণনা করেছিলেন।

    নেতানিয়াহুর এই কৌশলের কঠোর সমালোচনা করেছেন তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট। বিরোধী জোটের এই নেতা সেনাপ্রধানের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে বলেন, ক্ষমতার লড়াইয়ে টিকে থাকার জন্য নেতানিয়াহু কোনোভাবেই ইসরাইলি সামরিক বাহিনীকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন না।

  • পাঠ্য বইয়ের বিতর্কে এনসিটিবি’র ৯ কর্মকর্তা বদলি

    পাঠ্য বইয়ের বিতর্কে এনসিটিবি’র ৯ কর্মকর্তা বদলি

    ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে হাতে সময় বাকি আর মাত্র দুই মাস। এর মধ্যেই পাঠ্য বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। রাজনৈতিক প্রতীক ব্যবহারের বিতর্ক ওঠার পর বই সংশোধন ও পুনর্মুদ্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে বিতরণ হওয়া প্রায় ২০ লাখ বই ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সরকারের গচ্চা যাচ্ছে প্রায় ১৭ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রতিটি বই ছাপাতে প্রায় ৫৭ টাকা খরচ হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু এরই মধ্যে পাঠ্য বই নিয়ে বেধেছে তালগোল। সংশোধনের পর আবার বিতরণ হবে পাঠ্য বইগুলো। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বই সংশোধন ও পুনর্মুদ্রণের কারণে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। কর্মকর্তাদের কী কারণে বদলি করা হয়েছে, তা তিনি জানেন না বলে উল্লেখ করেন।

    আরও পড়ুন: নির্বাচনে জিততে ইরানের হামলার ভয় দেখাচ্ছেন নেতানিয়াহু

    জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বইয়ের ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি নিয়ে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত এই ছবিটি একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রতীকের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় আপত্তি ওঠে। যদিও এর আগে ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়েও এই প্রতীক ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে এনসিটিবি প্রথমে প্রতীক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিলেও পরে জানায়, জ্ঞানের পিরামিডের স্তরগুলোতে কোনো আইকনই রাখা হবে না। এনিয়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি)। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে সেটির পরিবর্তে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়। এনসিটিবি’র সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান জানান, এ বছর বইয়ে চারটি স্তরের নাম থাকবে, তবে কোনো আইকন থাকবে না। পরবর্তী সময়ে বিষয়গুলো আরও পরিমার্জন করা হবে।

    আরও পড়ুন: ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে আজ নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ

    বইয়ের ছবি সংক্রান্ত বিতর্কের রেশ ধরে সোমবার এনসিটিবি’র ৯ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ২৯শে অক্টোবরের মধ্যে তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর আগে রোববার আইসিটি বই সম্পাদনার দায়িত্বে থাকা গবেষণা কর্মকর্তা মু. আব্দুল্লাহ আল জোবায়েরকেও বদলি করা হয়। আগের দিন বদলি করা হয়েছিল আরেক কর্মকর্তাকে। তারা সবাই বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবমুক্ত না হলে ওইদিন অপরাহ্নে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।

    শুধু আইসিটি বই নয়, প্রাথমিক পর্যায়ের বাংলা, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বইয়ের ছবি নিয়েও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে মোট ৮২টি ‘নৌকা’র ছবি ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে ৩৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৩টি এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ২৫টি ছবি রয়েছে। এসব বিতর্কিত ছবি থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় এনসিটিবি’র অভ্যন্তরেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

    সব মিলিয়ে আগামী ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে সংশোধিত বই মাঠপর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে এনসিটিবি। তবে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করা বোর্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বদলির বিষয়ে এনসিটিবি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানান, এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং এ বিষয়ে তার কোনো সম্পৃক্ততা বা বিস্তারিত তথ্য নেই।

  • ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে আজ নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ

    ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে আজ নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ

    গাজায় চালানো সামরিক অভিযান, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, লাখো ফিলিস্তিনির বাস্তুচ্যুতি এবং নিজস্ব দুর্নীতির অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি থাকা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য আজ মঙ্গলবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনে আজ ভোটগ্রহণ হচ্ছে, যা দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা দেশটির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত না করলেও তারা পছন্দের রাজনৈতিক দলগুলোকে ভোট দিচ্ছেন, যার ভিত্তিতে পরে সরকার গঠিত হবে।

    আরও পড়ুন: পাঠ্য বইয়ের বিতর্কে এনসিটিবি’র ৯ কর্মকর্তা বদলি

    নির্বাচনে প্রায় ৭৩ লাখ নিবন্ধিত ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। আইন অনুযায়ী, পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে যেকোনো দলকে ১২০ আসনের মধ্যে অন্তত ৬১টি আসন পেতে হবে। নেসেটে প্রবেশের জন্য প্রতিটি দলকে কমপক্ষে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জরিপ অনুযায়ী, কোনো জোটেরই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ, যা পরবর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৬১ আসন। প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন হয়। এ হিসাবে নেতানিয়াহুর শিবিরের ৫৩ এবং বিরোধী শিবিরের ৫২টি করে আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    আরও পড়ুন: প্রথম প্রান্তিকে নতুন ছাড়ে প্রাপ্ত সহায়তার দ্বিগুণ অর্থ পরিশোধ

    নেতানিয়াহু তাঁর দল লিকুদসহ ডানপন্থী ও ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী জোট নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। তাঁর সরকারের বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ শরিকদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের দল জিউইশ পাওয়ার এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচের রিলিজিয়াম জায়োনিজম। এছাড়া অতি রক্ষণশীল ইহুদি দল শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমও তাঁর সম্ভাব্য মিত্র হিসেবে পাশে রয়েছে। অপরদিকে বিরোধী শিবিরে ইয়াশার, টুগেদার, ইসরায়েল বেইতেনু ও ডেমোক্র্যাটস দলগুলো রয়েছে। বিরোধী জোটে নির্দিষ্ট করে প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা না হলেও সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার নেতা গাদি আইজেনকট, নাফতালি বেনেট এবং ইয়ার লাপিদকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ সরকারপ্রধান হওয়ার দাবিদার। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের গত শুক্রবারের এক জরিপের তথ্যমতে, লিকুদ ও ইয়াশার ২২টি করে, টুগেদার ১৪টি এবং ডেমোক্র্যাটস ও জয়েন্ট লিস্ট ৯টি করে আসন পেতে পারে।

    নির্বাচনী জরিপে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর শিবির ৫৩টি এবং বিরোধী শিবির ৫২টি আসন পেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব দলগুলোর সমর্থন সরকার গঠনে নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে। তবে আইজেনকটসহ অনেক বিরোধী নেতা আরব দলগুলোর সঙ্গে কোনো ধরণের জোট না করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। কোনো সমঝোতা না হলে দেশটিতে পুনরায় নির্বাচনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাবেন। এ শিবির জিতলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে ইসরায়েলের নেতৃত্ব বদলালেই ফিলিস্তিনিদের জীবনে স্বস্তি ফিরবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। প্রতিটি দল নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রকাশ করে।

    উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে হামলার ঘটনার পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। ওই হামলার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ব্যর্থতার দায় ও স্বাধীন তদন্তের দাবি এবারের ভোটের অন্যতম প্রধান ইস্যু। নেতানিয়াহু এসব অভিযোগ অস্বীকার করলেও বিরোধীরা তাঁর কাছ থেকে কঠোর জবাবদিহি চাইছেন। একই সঙ্গে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি প্রদান ও রাষ্ট্র-ধর্মের সম্পর্ক নিয়েও ভোটারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। গাজার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা মোহাম্মদ ইলিয়ানের মতো অনেকেই মনে করছেন, নেতানিয়াহু হারলেও ইসরায়েলের সামগ্রিক নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই, তবুও অনেকেই তাঁর পরাজয় কামনা করছেন। এখন পর্যন্ত ছয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নেতানিয়াহু পুনরায় বিজয়ী হলে এটি হবে তাঁর সপ্তম মেয়াদ।

  • প্রথম প্রান্তিকে নতুন ছাড়ে প্রাপ্ত সহায়তার দ্বিগুণ অর্থ পরিশোধ

    প্রথম প্রান্তিকে নতুন ছাড়ে প্রাপ্ত সহায়তার দ্বিগুণ অর্থ পরিশোধ

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মেয়াদে যে পরিমাণ বিদেশি ঋণ ছাড় হয়েছে, তার দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ আগের ঋণের আসল ও সুদ মেটাতে ব্যয় করতে হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদনটির তথ্যমতে, প্রথম তিন মাসে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ ও অনুদান মিলে মোট ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার ছাড় পাওয়া গেছে। তবে একই সময়ে অতীতে নেওয়া ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে ১৩৫ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। ফলে নতুন পাওয়া বৈদেশিক সহায়তার চেয়ে ঋণের দায় মেটাতে প্রায় ৬৮ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার বেশি গুনতে হয়েছে।

    আরও পড়ুন: ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে আজ নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ

    ইআরডির প্রকাশিত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় এবার ঋণ শোধে মোট ব্যয় ৫.৬ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে আসল মেটাতে খরচ করা হয়েছে ৮৫ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের ৮১ কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার ডলারের চেয়ে ৪ কোটি ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার বেশি।

    একইভাবে বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধেও সরকারের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৪৯ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৪৬ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সুদ বাবদ ব্যয় বেড়েছে ২ কোটি ৯৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

    আরও পড়ুন: খেলাধুলা ও দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম একনজরে

    অন্যথায় ঋণ পরিশোধে খরচ বাড়লেও আন্তর্জাতিক অর্থছাড়ের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বৈশ্বিক সহায়তার প্রকৃত অর্থ ছাড় কমেছে ৪২.৩ শতাংশ। এবার ছাড় হওয়া ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলারের মধ্যে ৫৪ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার ঋণ এবং ১১ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে। শতাংশের হিসাবে এ হ্রাস ৪২ দশমিক ৩।

    গত অর্থবছরের একই মেয়াদে যেখানে ১১৪ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার ছাড় করেছিল উন্নয়ন সহযোগীরা, সেখানে এবার প্রকৃত অর্থ প্রাপ্তি কমেছে ৪৮ কোটি ৬২ লাখ ৮০ হাজার ডলার। বিদেশি ঋণের টাকা হাতে আসার হার কমে যাওয়ায় দায় পরিশোধে সরকারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

    অর্থছাড় কমলেও নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি অবশ্য আগের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে উন্নয়ন অংশীদারদের কাছ থেকে ১২৭ কোটি ৩০ লাখ ডলারের সহায়তার সম্মতি মিলেছে, যার মধ্যে ১১৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার ঋণ এবং ১২ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার অনুদান। আগের অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এই প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

    নতুন এই অঙ্গীকারের ফলে এক বছরের ব্যবধানে সহায়তার আশ্বাস ৩৬ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার বাড়লেও বাস্তবে বৈদেশিক অর্থের প্রাপ্তি বাড়েনি। এই বিষয়ে ইআরডি কর্মকর্তারা জানান, অঙ্গীকার ও অর্থছাড়ের মধ্যে প্রযুক্তিগত ব্যবধান থাকে। প্রকল্প অনুমোদন, চুক্তি সম্পাদন ও প্রাসঙ্গিক শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিশ্রুত অর্থ হাতে আসে না, যা নগদ অর্থে রূপান্তর হতে সময় নেয়।

  • খেলাধুলা ও দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম একনজরে

    খেলাধুলা ও দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম একনজরে

    ক্রিকেটে ত্রিদেশীয় সিরিজের পাশাপাশি আজ ফুটবলের বুন্দেসলিগা উপভোগ করতে পারবেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। ১ ক্রিকেটে ত্রিদেশীয় সিরিজের সঙ্গে ফুটবলে দেখবেন বুন্দেসলিগার ম্যাচ।

    আরও পড়ুন: প্রথম প্রান্তিকে নতুন ছাড়ে প্রাপ্ত সহায়তার দ্বিগুণ অর্থ পরিশোধ

    আরও পড়ুন: গুয়াহাটির হোটেলে বন্দুক হামলা: তদন্তে পুলিশ, গ্রেপ্তার ২

    দেশের কর্ণফুলী নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় হাতিয়ার দুই জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। এছাড়া দৌলতপুরে অর্ধশতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ২ কর্ণফুলী নদীতে ট্রলারডুবি, হাতিয়ার দুই জেলে নিখোঁজ।

    আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, যুক্তরাষ্ট্রে ভোট জালিয়াতি ধরিয়ে দিলে ১০ লাখ ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। এদিকে নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে নেতানিয়াহু ইরানের হামলার ভয় দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ৩ যুক্তরাষ্ট্রে ভোট জালিয়াতি ধরিয়ে দিলে মিলবে ১০ লাখ ডলার: ট্রাম্প।

  • গুয়াহাটির হোটেলে বন্দুক হামলা: তদন্তে পুলিশ, গ্রেপ্তার ২

    গুয়াহাটির হোটেলে বন্দুক হামলা: তদন্তে পুলিশ, গ্রেপ্তার ২

    ভারতের আসাম রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটির বোরা সার্ভিস এলাকার জিএস রোডে অবস্থিত হোটেল বিলাস ইনে সোমবার সন্ধ্যায় এক অতর্কিত বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ভয়াবহ ঘটনায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। ঘটনার পরপরই পুলিশ দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গুয়াহাটি পুলিশ কমিশনার পার্থ সারথি মহান্ত হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে অন্তত ছয় জন নিহত হয়েছেন।

    আরও পড়ুন: খেলাধুলা ও দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম একনজরে

    আরও পড়ুন: ২৭ অক্টোবর: আজ টিভিতে কোন খেলা দেখবেন

    নিহতদের মধ্যে রয়েছেন হোটেলের মালিক হেলেনা ভারালি, তার ছেলে দেবর্ষী কাশ্যপ এবং তাদের গাড়ির চালক। এছাড়া আহতদের মধ্যে নারায়ণ দাসসহ মোট তিনজন গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (জিএমসিএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গোলাগুলির সময় সাত রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল এবং চারজন ব্যক্তি হোটেলে প্রবেশ করেছিলেন। পুলিশ ঘটনাটির পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে এবং প্রাথমিকভাবে সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে পারিবারিক বিরোধকে এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত ক্রম এখনো তদন্তাধীন।

  • ২৭ অক্টোবর: আজ টিভিতে কোন খেলা দেখবেন

    ২৭ অক্টোবর: আজ টিভিতে কোন খেলা দেখবেন

    মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ মাঠে গড়াবে। ক্রিকেট ও ফুটবল ভক্তদের জন্য আজকের টিভি সূচি নিচে তুলে ধরা হলো

    আরও পড়ুন: গুয়াহাটির হোটেলে বন্দুক হামলা: তদন্তে পুলিশ, গ্রেপ্তার ২

    ক্রিকেট সিলেট-খুলনা, ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম, ঢাকা-রাজশাহী এবং রংপুর-বরিশাল ম্যাচগুলো সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বিসিবির ইউটিউব চ্যানেলে দেখা যাবে। সিলেট–খুলনা সকাল ৯–৩০ মি., ইউটিউব/বিসিবি।

    আরও পড়ুন: ইরানের ওপর চার দিনের মধ্যে বড় হামলার ছক সাজাচ্ছে পেন্টাগন

    নিউজিল্যান্ড-ভারত তৃতীয় টি-টোয়েন্টি বেলা ১টায় সনি স্পোর্টস ১ ও ট্যাপম্যাডে সম্প্রচারিত হবে। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ওয়ানডে ম্যাচটি বেলা ২টায় টি স্পোর্টস ও ট্যাপম্যাডে দেখা যাবে। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের তৃতীয় টেস্ট শুরু হবে বেলা ২টা ৩০ মিনিটে, যা ট্যাপম্যাডে দেখা যাবে। দক্ষিণ আফ্রিকা–অস্ট্রেলিয়া বেলা ২–৩০ মি., ট্যাপম্যাড।

    ফুটবলরাত ২টায় ফ্লিটউড টাউন বনাম আর্সেনাল ম্যাচটি সরাসরি দেখা যাবে ফ্যানকোড অ্যাপে।

  • ইরানের ওপর চার দিনের মধ্যে বড় হামলার ছক সাজাচ্ছে পেন্টাগন

    ইরানের ওপর চার দিনের মধ্যে বড় হামলার ছক সাজাচ্ছে পেন্টাগন

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকান সামরিক বাহিনী। পেন্টাগন এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড যৌথ উদ্যোগে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র, জ্বালানি খাতের অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে হামলার একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রস্তুত রেখেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্দেশ পাওয়ার পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে এই ব্যাপকভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরবর্তী সময়েই এ ধরনের বড় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

    আরও পড়ুন: ২৭ অক্টোবর: আজ টিভিতে কোন খেলা দেখবেন

    প্রতিশোধের আশঙ্কায় সতর্কতা

    যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরাইল থেকে কোনো ধরনের হামলা হলে তেহরান ও তাদের মিত্র হুথি বিদ্রোহীরা বসে থাকবে না বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের উচ্চ ঝুঁকি থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান মার্কিন ঘাঁটি ও কর্মীদের লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে এমন সতর্কবার্তা পেন্টাগনের ভাবনার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন নিরাপত্তার ঝুঁকিতে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দূতাবাস থেকে নিজেদের কর্মীদের সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

    আরও পড়ুন: কর্ণফুলী নদীতে ট্রলারডুবি: হাতিয়ার দুই জেলে নিখোঁজ

    হরমুজ প্রণালিতে কড়া নজরদারি

    বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি সম্প্রতি পরিদর্শন করেছেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক নৌশক্তি চলাচল নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। কুপার জানিয়েছেন, কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যার সমাধান না হলে এবং আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের অস্থিরতা বজায় থাকলে চূড়ান্ত সামরিক অভিযানের দিকেই অগ্রসর হবে ওয়াশিংটন।

    নেতানিয়াহুর চাপ ও ট্রাম্পের কৌশল

    ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শুরু থেকেই ইরানের ওপর দ্রুত সামরিক অভিযান চালানোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করছেন। তবে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সমীকরণ ও আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে আপাতত ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন। ইসরাইলের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, নেতানিয়াহু আপাতত যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা মেনে নিয়ে নির্বাচনের পরবর্তী সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে রাজি হয়েছেন। এই রাজনৈতিক সমঝোতাই বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণের মূল কারণ।

  • কর্ণফুলী নদীতে ট্রলারডুবি: হাতিয়ার দুই জেলে নিখোঁজ

    কর্ণফুলী নদীতে ট্রলারডুবি: হাতিয়ার দুই জেলে নিখোঁজ

    চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে ইঞ্জিন বিকল হয়ে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার দুই জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার দিবাগত রাত চারটার দিকে আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ জেলেরা হলেন হাতিয়ার তমরদ্দি ইউনিয়নের মোস্তফার ছেলে মিরাজ উদ্দিন (৩২) এবং সোনাদিয়া ইউনিয়নের চরচেঙ্গা গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে শরীফ উদ্দিন (৩৪)।

    আরও পড়ুন: ইরানের ওপর চার দিনের মধ্যে বড় হামলার ছক সাজাচ্ছে পেন্টাগন

    স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ দিন আগে মাছ ধরার জন্য একটি লালবোট কিনতে ওই জেলেরা বন্দরটিলা এলাকায় গিয়েছিলেন। ট্রলারটি কেনার পর রোববার রাতে তাঁরা হাতিয়ার উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে কর্ণফুলী নদীর আকমল আলী ঘাট এলাকায় পৌঁছালে ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। নদীর প্রবল স্রোতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রলারটি পেছনে থাকা একটি কার্গো জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে তলিয়ে যায়।

    আরও পড়ুন: মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যের ডাক দিলেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

    দুর্ঘটনার পরপরই ট্রলারে থাকা কামাল উদ্দিন নামে এক জেলে কার্গো জাহাজের শিকল ধরে ঝুলে থেকে প্রাণ বাঁচান। পরবর্তীতে জাহাজের কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করেন। তবে নিখোঁজ থাকা অপর দুই জেলে মিরাজ ও শরীফ উদ্দিনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

    ঘটনার বিষয়ে হাতিয়ার নলচিরা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আশিষ চন্দ্র সাহা বলেন, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে ট্রলারটি ডুবেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যের ডাক দিলেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

    মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যের ডাক দিলেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

    আঞ্চলিক সংহতি ও ঐক্য জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ২৬ অক্টোবর, সোমবার তেহরানে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সাথে এই আলোচনা করেন। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী এই দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে তিনি বিদ্যমান ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত অবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। ইরানের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রভাবশালী ইসলামী দেশগুলোর এই ঐক্য আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পেজেশকিয়ান স্পষ্টভাবে বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইসলামী রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত ও সমন্বিত অবস্থান গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।

    আরও পড়ুন: কর্ণফুলী নদীতে ট্রলারডুবি: হাতিয়ার দুই জেলে নিখোঁজ

    আরও পড়ুন: ডিফারেনশিয়াল প্রাইভেসি: যেভাবে পরিসংখ্যান থেকে হারিয়ে যায় রোগীরা

    বৈঠকটিতে অংশ নিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। এছাড়া সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন। ইরানের পক্ষে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে তেহরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার প্রভাব ও এর পরিণতির বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়েছে। আলোচনা শেষে চার দেশই সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করতে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে নিয়মিত আলোচনার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

    ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার উপসচিব আলী বাঘেরি কানি জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ায় নিজস্ব উদ্যোগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য থেকেই এই আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। গত আগস্টে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, জোটের কোনো সদস্যের ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে সমগ্র জোটের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করার কথা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের তৎপরতা বৃদ্ধি এবং ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকটি আঞ্চলিক রাজনীতির সমীকরণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সংঘাত প্রশমন ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করতেই এই দেশগুলো বর্তমানে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

  • ডিফারেনশিয়াল প্রাইভেসি: যেভাবে পরিসংখ্যান থেকে হারিয়ে যায় রোগীরা

    ডিফারেনশিয়াল প্রাইভেসি: যেভাবে পরিসংখ্যান থেকে হারিয়ে যায় রোগীরা

    ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় আধুনিক যুগে আমরা যে গাণিতিক কৌশলের ওপর ভরসা করি, তার নাম ‘ডিফারেনশিয়াল প্রাইভেসি’। মার্কিন কম্পিউটার বিজ্ঞানী সিনথিয়া ডোয়ার্ক ২০০৬ সালে প্রথম এই ধারণার গাণিতিক ভিত্তি স্থাপন করেন। বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ডেটাবেজ বা বড় আকারের তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এটি একটি প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এই প্রযুক্তির একটি অন্ধকার দিকও রয়েছে, যা বিশেষ করে বিরল রোগে আক্রান্ত বা ছোট জনগোষ্ঠীর তথ্যের ক্ষেত্রে মারাত্মক বিকৃতি ঘটাতে পারে।

    ডিফারেনশিয়াল প্রাইভেসির মূল প্রক্রিয়াটি বেশ কৌশলী। এই নয়েজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে একটি প্যারামিটার।

    যখনই কোনো নির্দিষ্ট প্রশ্নের বিপরীতে ডেটাবেজ থেকে তথ্য নেওয়া হয়, তখন মূল উত্তরের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার ‘নয়েজ’ বা এলোমেলো সংখ্যা যোগ করে দেওয়া হয়। কারণ, তাদের জনসংখ্যা কম হওয়ায় তা বেঁধে দেওয়া সীমার নিচে পড়ে গেছে।

    আরও পড়ুন: মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যের ডাক দিলেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

    এর ফলে কোনো একক ব্যক্তির রেকর্ড আলাদাভাবে শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, যা গোপনীয়তা নিশ্চিত করে।

    তবে এই নয়েজ যোগ করার প্রক্রিয়াটি গাণিতিকভাবেই কিছু ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি করে।

    যেমন, কোনো একটি এলাকায় বিরল কোনো রোগে আক্রান্ত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা যদি ৫ হয়, তবে প্রাইভেসি সেটিংসে নয়েজ যুক্ত করার ফলে সেই সংখ্যাটি ভুলবশত ২ অথবা ৯ হিসেবে দেখা দিতে পারে। কোনো এক জেলায় বছরে মাত্র সাত-আটজন রোগী বিরল কোনো এক জটিলতায় ধরা পড়ছে। সংখ্যাটা খুব ছোট, কিন্তু ওই সাত-আটজন মানুষের জন্য এটাই তাঁদের পুরো বাস্তবতা। তাই একে বাংলাদেশের নিজস্ব ও আসল ডেটা দিয়ে একটি চিন্তার পরীক্ষা হিসেবে দেখা যাক।

    আরও পড়ুন: সিরিয়ায় জর্ডানের বিমান হামলায় শিশুসহ অন্তত ৭ জন নিহত

    বড় জনসংখ্যার ক্ষেত্রে এই পার্থক্য নগণ্য হলেও ছোট জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এটি ভুল তথ্যের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

    এই বৈষম্যের বিষয়টি মেশিন লার্নিং মডেলে ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো প্রমাণ করেন নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গবেষক ইউজিন বাগদাসারিয়ান ও তাঁর সহকর্মীরা। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, ডেটাসেটে যেসব তথ্যের উপস্থিতি বেশি, প্রাইভেসি-সুরক্ষিত মডেল সেগুলো ৯৮-৯৯ শতাংশ নির্ভুলতায় শনাক্ত করতে পারে। কিন্তু যে তথ্যের নমুনার সংখ্যা কম, সাধারণ মডেল যেখানে ৯৭ শতাংশ নির্ভুলতা দেখাতে সক্ষম, সেখানে প্রাইভেসি-সুরক্ষিত মডেলটি মাত্র ৭৭ শতাংশ নির্ভুল ফল দিতে পারে। অর্থাৎ তথ্যের স্বল্পতাই এখানে বড় দুর্বলতা হিসেবে সামনে আসে। যে সংখ্যাটার ছবি ডেটাসেটে বেশি ছিল (যেমন ‘২’), দুটি মডেলই সেটা প্রায় সমান নির্ভুলতায় (৯৮-৯৯ শতাংশ) চিনতে পেরেছিল। কিন্তু যে সংখ্যার ছবি কম ছিল (যেমন ‘৮’-এর মাত্র ৫০০টি নমুনা), সাধারণ মডেল সেটা ৯৭ শতাংশ নির্ভুলতায় চিনতে পারলেও প্রাইভেসি-সুরক্ষিত মডেলটি চিনতে পেরেছিল মাত্র ৭৭ শতাংশ।

    আদমশুমারির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে।

    ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরো প্রথমবারের মতো ডিফারেনশিয়াল প্রাইভেসি ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির জে টি মিউলার এবং পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির আলেকজান্ডার আর সান্তোস-লোজাদার ২০২২ সালের গবেষণায় দেখা যায়, ছোট ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উপাত্তে এই পদ্ধতিতে ব্যাপক অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। একই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে মার্কিন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও। মিনিয়াপোলিস ফেডারেল রিজার্ভের একটি গবেষণা বলছে, প্রায় ৮০ শতাংশ উপজাতি গোষ্ঠী আগে তাদের বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক যে নিখুঁত তথ্য পেত, নতুন নিয়মে তা আর পাওয়া যাচ্ছে না। হুবহু একই জিনিস ঘটেছে স্বাস্থ্যের হিসাবের ক্ষেত্রেও।

    স্বাস্থ্যখাতের তথ্যে এর প্রভাব আরও উদ্বেগের কারণ। হাওয়ার ও সান্তোস-লোজাদার ২০২১ সালের গবেষণা অনুযায়ী, ডিফারেনশিয়াল প্রাইভেসি প্রয়োগের ফলে কোভিড-১৯-এর বয়সভিত্তিক মৃত্যুহারে বড় ধরনের বিকৃতি ঘটে, যা বাস্তবতার চেয়েও অনেক বেশি বা অস্বাভাবিক হার প্রদর্শন করে। কাউন্টি পর্যায়ের ৪০ শতাংশ বয়স-লিঙ্গ গ্রুপ এবং ৬০ শতাংশ জাতিগত গ্রুপ এই বিকৃতির শিকার হয়। এছাড়া কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর তথ্যে শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় এই প্রভাব আরও বেশি প্রকট বলে ২০২০ সালের এক গবেষণায় উঠে এসেছে। হাওয়ার ও সান্তোস-লোজাদার ২০২১ সালের গবেষণা দেখিয়েছে, ডিফারেনশিয়াল প্রাইভেসি প্রয়োগ করলে কোভিড-১৯-এর বয়সভিত্তিক মৃত্যুহারে এমন বিকৃতি আসতে পারে যে হিসাব করা মৃত্যুহার ১০০ ভাগের বেশিও দেখাতে পারে। সান্তোস-লোজাদা, হাওয়ার্ড ও ভার্ডেরির ২০২০ সালের আরেকটি গবেষণা আরও নির্দিষ্ট করে দেখিয়েছে, এই বিকৃতি শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর মৃত্যুহারের হিসাবে বেশি প্রভাব ফেলে।

    বাংলাদেশে এখনো জাতীয় পর্যায়ে ডিফারেনশিয়াল প্রাইভেসির প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহার না থাকলেও, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে যদি বিরল কোনো রোগের তথ্য বা জেলাভিত্তিক জটিল স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এই পদ্ধতিতে প্রকাশ করা হয়, তবে উপরের গবেষণাগুলোর মতো একই ধরনের বিকৃতি ঘটার ঝুঁকি থেকে যায়। বিশেষ করে ২০২৩ সালে বাংলাদেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মতো পরিস্থিতিগুলোর ক্ষেত্রে সঠিক পরিসংখ্যানের গুরুত্ব অপরিসীম। যেকোনো গাণিতিক সুরক্ষাই তখনই যুক্তিযুক্ত, যখন আমরা বুঝতে পারি যে প্রতিটি ছোট সংখ্যার আড়ালে বাস্তব মানুষ রয়েছেন, যারা পরিসংখ্যানের ভুলে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারেন। এখন কল্পনা করুন, এই ডেটাবেজে রোগীর পরিচয় গোপন রাখার জন্য একটা গাণিতিক পদ্ধতি বসানো হলো, যার কাজ হলো প্রতিটি সংখ্যার সঙ্গে সামান্য একটু এলোমেলো ‘শব্দ’ বা ‘নয়েজ’ যোগ করে দেওয়া। ডেটাবেজ তখনো ঠিকই ‘গোপনীয়’ থাকে, কিন্তু ওই জেলার রোগীরা যেন কাগজে-কলমে অস্তিত্বহীন হয়ে যায়। সমস্যাটা হলো, যে গণিত আমাদের গোপনীয়তা রক্ষা করে, সেটিই কিছু মানুষকে পরিসংখ্যানের জগৎ থেকে একেবারে মুছে দিতে পারে। কম্পিউটারের ক্যাবলের মাথায় প্লাস্টিকের মোটা অংশ থাকে কেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অদৃশ্য বৈষম্য ও আমাদের ভবিষ্যৎ। তার ফলাফল ছিল ঠিক এই নমুনারই একটি বাস্তব সংস্করণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি গান বানাতে পারে। কিন্তু দেশ যেটাই হোক না কেন, গণিতটা তো একই থাকবে।

    ডিফারেনশিয়াল প্রাইভেসির প্রভাব নিয়ে উল্লেখযোগ্য গবেষণাসমূহ

    • Bagdasaryan, E., Poursaeed, O., & Shmatikov, V. (2019). Differential Privacy Has Disparate Impact on Model Accuracy. Advances in Neural Information Processing Systems (NeurIPS), 32, 15479–15488.
    • Mueller, J. T., & Santos-Lozada, A. R. (2022). The 2020 US Census Differential Privacy Method Introduces Disproportionate Discrepancies for Rural and Non-White Populations. Population Research and Policy Review, 41(4), 1417–1430.
    • Hauer, M. E., & Santos-Lozada, A. R. (2021). Differential Privacy in the 2020 Census Will Distort COVID-19 Rates. Socius, 7.
    • Santos-Lozada, A. R., Howard, J. T., & Verdery, A. M. (2020). How Differential Privacy Will Affect Our Understanding of Health Disparities in the United States. Proceedings of the National Academy of Sciences, 117(24), 13405–13412.
    • Gregg, M., Trostle, H., & Liebler, C. A. (2023). New 2020 Census Rules Make It Harder to Navigate Native American Data. Federal Reserve Bank of Minneapolis, Center for Indian Country Development, CICD Working Paper 2023-05.

    বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও গবেষণার তথ্য

    • Bhowmik, K. K., et al. (2023). Recent outbreak of dengue in Bangladesh: A threat to public health. Health Science Reports, 6(4), e1210.
    • Araf, Y., et al. (2024). Emerging health implications of climate change: dengue outbreaks and beyond in Bangladesh. The Lancet Microbe, 5(3), e213.
    • এজেন্টিক এআই কীভাবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও তথ্যের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতে আরও পরিবর্তন করতে পারে তা নিয়ে চলছে নতুন আলোচনা।
  • সিরিয়ায় জর্ডানের বিমান হামলায় শিশুসহ অন্তত ৭ জন নিহত

    সিরিয়ায় জর্ডানের বিমান হামলায় শিশুসহ অন্তত ৭ জন নিহত

    সিরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীদের আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে জর্ডানের সামরিক বাহিনী। সোমবার পরিচালিত এই হামলায় এক নারী ও কয়েকটি শিশুসহ অন্তত সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। জর্ডানের দাবি, গত সপ্তাহে দেশটির কারাক গভর্নরেটে একটি গির্জায় বন্দুকধারীদের হামলায় ৯ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক খবরে নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও কয়েকটি শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে।

    আরও পড়ুন: ডিফারেনশিয়াল প্রাইভেসি: যেভাবে পরিসংখ্যান থেকে হারিয়ে যায় রোগীরা

    জর্ডানের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, গির্জায় হামলাকারীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র দলগুলোকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়। এতে তাদের বেশ কয়েকটি যান ধ্বংস এবং বহু সদস্য হতাহত হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট করে হামলার স্থান কিংবা আস্তানাগুলোর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে জর্ডান সরকার দাবি করেছে, সিরীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    আরও পড়ুন: ইয়ামাল ও এমবাপ্পেকে হারিয়ে ব্যালন ডি’অর জিতলেন কেইন

    যদিও জর্ডানের যৌথ সমন্বয়ের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে দামেস্ক।

    সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামে এক বার্তায় জানায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা ও সুয়াইদা প্রদেশে চালানো এই হামলায় বেশ কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটি হামলায় একই পরিবারের এক পুরুষ, নারী ও তিনটি শিশুসহ পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া পৃথক দুটি হামলায় ৬০ ও ৮০ বছর বয়সী আরও দুই প্রবীণ নাগরিক নিহত হয়েছেন।

    হামলা পরবর্তী পরিস্থিতি ও সীমান্ত ব্যবস্থা

    • তদন্ত ও নিরাপত্তা সমন্বয়সীমান্ত এলাকায় যৌথ নিরাপত্তার তাগিদ দিয়ে সিরিয়া সরকার এই হামলার ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।
    • সীমান্ত ক্রসিং বন্ধজর্ডানের এই হামলার পর নিরাপত্তার স্বার্থে সিরিয়ার সীমান্ত কর্তৃপক্ষ দুই দেশের সংযোগকারী নাসিব সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে দুই পাশেই দূরপাল্লার যান চলাচল পুরোপুরি স্থগিত রয়েছে।

    গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

    • এ ছাড়া অন্য দুটি হামলায় ৬০ ও ৮০ বছর বয়সী দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা ও সুয়াইদা প্রদেশে জর্ডানের হামলাগুলো চালানো হয়।
    • সূত্র: আলজাজিরা।

    গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

    • সিরিয়ার সরকার এ হামলার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। এক বিবৃতিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় ‘যৌথভাবে মাঠপর্যায়ে ও নিরাপত্তা বিষয়ে সমন্বয়ের’ গুরুত্ব তুলে ধরেছে দেশটি।
  • ইয়ামাল ও এমবাপ্পেকে হারিয়ে ব্যালন ডি’অর জিতলেন কেইন

    ইয়ামাল ও এমবাপ্পেকে হারিয়ে ব্যালন ডি’অর জিতলেন কেইন

    লামিনে ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকাদের পেছনে ফেলে ২০২৬ সালের পুরুষদের ব্যালন ডি’অর জয় করেছেন ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখের ৩৩ বছর বয়সী স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবদন্তি রোনালদো বিজয়ী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করতেই আনন্দে মেতে ওঠেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। তাঁর গোলের ধারায় বুন্দেসলিগার শিরোপা জিতেছে বায়ার্ন।

    আরও পড়ুন: সিরিয়ায় জর্ডানের বিমান হামলায় শিশুসহ অন্তত ৭ জন নিহত

    ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে ফুটবলের এই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত খেতাব অর্জনের নজির গড়লেন কেইন। ইতিহাসের পঞ্চম ইংরেজ ফুটবলার হিসেবে এই অর্জনে নাম লেখালেন তিনি। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দল উভয় জার্সিতে গোলের অসাধারণ ধারাবাহিকতা দেখিয়ে তিনি এই স্বীকৃতি অর্জন করলেন।

    পুরস্কার জয়ের পর কেইন তাঁর আবেগ চেপে রাখতে পারেননি। নিজের জন্মশহর লন্ডনে এই সম্মাননা পাওয়ার বিষয়টিকে অত্যন্ত বিশেষ বলে বর্ণনা করেন তিনি। তাঁকে ভোট দেওয়া সবাইকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি এই প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জিং রূপটি ফুটিয়ে তোলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। তাঁর ভাষ্যমতে, বিশ্বসেরা তারকাদের ভিড় থেকে একজনকে বেছে নেওয়া বিচারকদের জন্যও এক কঠিন কাজ ছিল। তাঁর মতে, এত ভালো খেলোয়াড়ের মধ্যে সেরাকে বেছে নেওয়া বিচারকদের জন্য সহজ ছিল না।

    আরও পড়ুন: সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে: আইজিপি

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্য সব মনোনীত, বিজয়ী ও সহ-খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়ে কেইন উল্লেখ করেন, কঠোর পরিশ্রম, অদম্য নিষ্ঠা এবং জেদ ধরে রাখলে যে কাঙ্ক্ষিত সফলতা লাভ করা যায়, তাঁর এই পুরস্কার সেটিই প্রমাণ করে।

    সদ্য সমাপ্ত ২০২৫–২৬ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বমোট ৬৫টি ম্যাচ খেলে ৭৩টি গোল করেছেন কেইন। ক্লাব ফুটবলে বায়ার্নের হয়েই তিনি করেছেন ৬১ গোল, যার ওপর ভর করে দলটি বুন্দেসলিগা, জার্মান কাপ ও সুপার কাপের ট্রফি ঘরে তোলে। ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের শীর্ষ গোলদাতা হওয়ায় তাঁর হাতে উঠেছে সেরা গোলদাতার স্মারক ‘গের্ড মুলার ট্রফি’। ২০২৫–২৬ মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল করেছেন কেইন।

    আন্তর্জাতিক ফুটবলেও দারুণ দ্যুতি ছড়িয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। দেশের হয়ে মৌসুমে ১২টি গোল করার পাশাপাশি ২০২৬ বিশ্বকাপে দলটির হয়ে ৬টি গোল করেন তিনি। তাঁর এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভর করেই ১৯৬৬ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা সাফল্য হিসেবে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ইংলিশরা। ক্লাব ও জাতীয় দলের অসাধারণ এই সাফল্যের জোরেই শেষ পর্যন্ত ট্রফিটি নিজের করে নেন কেইন।

  • সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে: আইজিপি

    সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে: আইজিপি

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। সোমবার দুপুরে রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র ইসলামিক ব্যাংকিং সেবার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। আইজিপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা অপরাধ দমনে আইন ও সংবিধান অনুযায়ী যে পদক্ষেপ প্রয়োজন, পুলিশ সেটিই গ্রহণ করবে। যেখানে ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে আমরা সেটাই করবো। তবে আমরা আগে নিজেদের ঘর পরিষ্কার করছি। গত দুই মাসে ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের যোগ্যতা নিয়ে সমালোচনার জবাবে আইজিপি বলেন, ‘আপনারা বলেন অশিক্ষিত পুলিশ নিয়োগ দেন, কনস্টেবলের আবার কি জ্ঞান লাগে। ওর সঙ্গে ঝামেলা হলেই বলেন পুলিশ খারাপ। আমরা কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন করি নাই। কোনো আনওয়ান্টেড ফোর্স অ্যাপ্লাই করি নাই— উল্লেখ করে আলী হোসেন ফকির বলেন, আপনারা দেখেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে পুলিশের যে অবস্থা ছিল, পুলিশ রাস্তায় ডিউটি করতে ভয় পেতো, কোথাও যেতে সাহস পেতো না। সেই অবস্থা থেকে আমরা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুখী-সমৃদ্ধিময় বাংলাদেশ, আপনাদের প্রকৃত স্বস্তি, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দেয়ার জন্য, আপনার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ফেল করলে রাস্তায় পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদের মারামারি হয়, ইন্ডাস্ট্রিতে বেতন না দিলে শ্রমিকের মারামারি হয় পুলিশের সঙ্গে। সংবিধানে পুলিশের কাজের চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স রয়েছে। আইজিপি তার বক্তব্যে মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি প্রদানের লক্ষ্যে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি উল্লেখ করেননি। বাংলাদেশ পুলিশ মানবাধিকার সমুন্নত রেখে জনগণের জানমাল রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধী গ্রেপ্তার, অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় চারজন পুলিশ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। দেশের প্রচলিত আইন বিশেষ করে আত্মরক্ষার অধিকার, দণ্ডবিধি-১৮৬০, ফৌজদারী কার্যবিধি-১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট-১৮৬১-এ পুলিশের আত্মরক্ষার অধিকারের কথা বলা রয়েছে। ফ্যাসিস্ট আমলের কথা উল্লেখ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, এদেশের নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা ছিল না, বাকস্বাধীনতা ছিল না, বিনা বিচারে মানুষকে হত্যা করা হতো।

    শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, কে আসবে বা আপা কবে আসবেন— এসব বিষয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেখার কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের মূল দায়িত্ব হলো আইন ও সংবিধান মেনে যেখানে যা প্রয়োগ করা দরকার, তা করা। তিনি আরও যোগ করেন, পুলিশকে এমপাওয়ার না করলে এবং যথাযথভাবে আইন প্রয়োগের সুযোগ না দিলে সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

    আরও পড়ুন: ইয়ামাল ও এমবাপ্পেকে হারিয়ে ব্যালন ডি’অর জিতলেন কেইন

    নিজের বাহিনীর সমালোচনা নিয়ে আইজিপি বলেন, পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে এক পক্ষ তাকে ফ্যাসিস্ট বলে, আবার পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকলে তাকে দুর্বল বলা হয়। পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যদের অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি বাহিনীর কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি দাবি করেন, গত ১৭ বছর ধরে যারা দেশ পরিচালনা করেছে, তাদের আমলেই পাড়ায়-মহল্লায় মাদকের বিস্তার ঘটেছে। অথচ এই কনস্টেবলই তৃণমূল পর্যায়ে আপনাকে সেবা দিচ্ছে।

    নাগরিক সমাজের ১০১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির বিবৃতির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংবিধানের কোথাও লেখা নেই যে গোপনে মদ বা মাদক গ্রহণ করা কারো অধিকার। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনের আওতায় থাকা জরুরি। এছাড়া পুলিশ সদর দপ্তর সোমবার এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানিয়েছে, অপরাধ দমন এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে অনেক সময় সরাসরি প্রতিরোধ ও আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়। তৎকালীন সরকারি দলের নেতারা মাদক থেকে মাসোহারা পেতেন এবং পুলিশেরও কিছু সদস্য এতে জড়িত ছিলেন। আপনি কি পুলিশ হাউজিংয়ের ভেতরে গোপনে গিয়ে মদ খাবেন, মাতলামি করবেন, কোকেন-হিরোইন গ্রহণ করবেন। স্বাধীনতা আছে বলে যা ইচ্ছা তা করতে পারবেন না, আইনের আওতায় থাকতে হবে। কিন্তু পুলিশেই সবথেকে বেশি শিক্ষিত লোক দরকার, কারণ তাকে সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে কন্ট্রোল করতে হবে।

    আরও পড়ুন: আলিঙ্গনের চাপে ভাঙল পাঁজরের পাঁচটি হাড়, নেপথ্যে অস্টিওপোরোসিস

    এদিকে, ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, একজন আইজিপি হয়ে এ ধরনের বক্তব্য দেয়া তার চাকরিবিধির পরিপন্থি। তিনি অভিযোগ করেন, এটি দেশে ভয়ের সংস্কৃতি এবং গুম-খুন-ক্রসফায়ারের সেই পুরোনো ফ্যাসিবাদী আমলের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর ইঙ্গিত।

    অন্যদিকে, সাংবাদিকদের নিয়ে আইজিপির আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। সোমবার সন্ধ্যায় ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, আইজিপি মন্তব্য করেছেন যে ‘মাদকের টাকা না পেলে সাংবাদিকরা পুলিশকে অকার্যকর বলছেন’। সংগঠনটি এটিকে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থি বলে অভিহিত করেছে। একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সম্পর্কে আইজিপি’র মন্তব্য নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

    বিবৃতিতে ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, কোনো পুলিশ সদস্যের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করতে হবে। তারা আইজিপির বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা না চাইলে তারা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। গুজব ও মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা জরুরি।

    আইজিপি আরও বলেন, সমাজে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে হলে পুলিশের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, পুলিশকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করবেন না এবং নিজেরাও ব্ল্যাকমেইল হবেন না। দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত পুলিশের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে নিয়ে আইন ও সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

    সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, আইজিপির এই বিতর্কিত বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিক মহল এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম হয়েছে। একদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি এবং অন্যদিকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রধানের এমন কঠোর অবস্থান— সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নতুন করে পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে।

  • আলিঙ্গনের চাপে ভাঙল পাঁজরের পাঁচটি হাড়, নেপথ্যে অস্টিওপোরোসিস

    আলিঙ্গনের চাপে ভাঙল পাঁজরের পাঁচটি হাড়, নেপথ্যে অস্টিওপোরোসিস

    ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আলিঙ্গন মানসিক প্রশান্তি বয়ে আনে। কিন্তু সেই পরিচিত আলিঙ্গনই যদি গুরুতর শারীরিক আঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে তা ভয়ের ও বিস্ময়ের বিষয়। সম্প্রতি চীনের জিয়াংসু প্রদেশে ঘটে যাওয়া এমনই এক ঘটনায় এক নারীর পাঁচটি পাঁজরের হাড় ভেঙে গেছে, আর একটি পাঁজরে দেখা দিয়েছে সূক্ষ্ম ফাটল।

    ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ওয়াং নামের এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীকে ঠান্ডা লাগার কথা শুনে জড়িয়ে ধরেন। স্ত্রীকে উষ্ণতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা এই আলিঙ্গনের পর তিনি তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। এরপর তিনি মাটিতে বসে পড়েন এবং ব্যথার কারণে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়ানোও অসম্ভব হয়ে পড়ে। হাসপাতালে বুকের সিটি স্ক্যান করার পর পাঁচটি পাঁজর ভাঙার ভয়াবহ তথ্যটি বেরিয়ে আসে।

    চিকিৎসকদের মতে, ওই নারীর হাড় অত্যন্ত ভঙ্গুর হয়ে পড়েছিল।

    আরও পড়ুন: সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে: আইজিপি

    তাঁর ওজন ৪৫ থেকে ৫০ কেজির মধ্যে। নিয়মিত কঠোর খাদ্যনিয়ন্ত্রণ, রাতের খাবার বর্জন, প্রচুর কফি পান এবং পর্যাপ্ত রোদ ও বাইরের পরিবেশের সংস্পর্শে না থাকাও তাঁর হাড়ের এই অবস্থার জন্য দায়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও ঠিক কোনটি কতটুকু প্রভাব ফেলেছে, তার সুনির্দিষ্ট মেডিকেল তথ্য নেই। তবে অস্টিওপোরোসিস যে হাড়ের শক্তি কমিয়ে দেয়, তা এখানে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই নারীর ওজন ছিল ৪৫ থেকে ৫০ কেজি। তবে এসব অভ্যাসের কোনটি তাঁর হাড়ের দুর্বলতার জন্য কতটা দায়ী, তা নিশ্চিতভাবে বলার মতো বিস্তারিত চিকিৎসা-তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ভাত বাদ নয়, ওজন নিয়ন্ত্রণে অনুসরণ করতে পারেন জাপানিদের ১২ অভ্যাস।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (এনআইএইচ) এর তথ্যানুযায়ী, অস্টিওপোরোসিস হলো এমন এক নীরব রোগ, যাতে হাড়ের খনিজ ঘনত্ব ও অভ্যন্তরীণ কাঠামো কমে যায়। ফলে সাধারণ আলিঙ্গন বা সামান্য চাপেও হাড় ভাঙার ঝুঁকি তৈরি হয়। পাঁজরের হাড় বুকের খাঁচা হিসেবে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের সুরক্ষায় কাজ করে। এই হাড়ের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা কমলে যেকোনো ধরনের অতিরিক্ত চাপে তা ভেঙে যেতে পারে।

    এই রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ দায়ী। প্রথমত, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডির ঘাটতি। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত খাদ্যগ্রহণ বা প্রোটিনের অভাব। এছাড়া শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, কম ওজন এবং হরমোনের পরিবর্তন বিশেষ করে মেনোপজের পর নারীদের ক্ষেত্রে হাড়ের ক্ষয় দ্রুত হয়। অনেক সময় পারিবারিক ইতিহাসও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

    আরও পড়ুন: ইরাকের উপকূলে অগ্নিকাণ্ডের কবলে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ

    অস্টিওপোরোসিস প্রাথমিক অবস্থায় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ করে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হাড় ভাঙার পর রোগী জানতে পারেন যে তিনি এই রোগে আক্রান্ত। তবে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। যেমন: সামান্য আঘাতে হাড় ভাঙা, মেরুদণ্ডের হাড়ের পরিবর্তন বা শারীরিক উচ্চতা কমে যাওয়া। ঝুঁকির কারণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে ডুয়াল-এনার্জি এক্স-রে অ্যাবজরপশিওমেট্রি বা ডিএক্সএ পরীক্ষার মাধ্যমে হাড়ের খনিজ ঘনত্ব যাচাই করা যেতে পারে।

    হাড়ের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে খাদ্যাভ্যাসে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। দুধ, দই এবং কাঁটাসহ ছোট মাছ ক্যালসিয়ামের চমৎকার উৎস। শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য ভিটামিন ডি অপরিহার্য, যা সূর্যালোক ও নির্দিষ্ট খাবার থেকে পাওয়া যায়। এছাড়া ডিম, ডাল ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার পেশি ও হাড়ের শক্তি বাড়ায়। তবে কঠোর ডায়েট বা দীর্ঘস্থায়ী অনাহার এড়িয়ে চলা জরুরি।

    নিয়মিত ব্যায়াম হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। হাঁটা, সিঁড়ি দিয়ে ওঠা বা ভার বহনকারী ব্যায়াম হাড়কে মজবুত রাখে। তবে অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত বা উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য ব্যায়ামের ধরন ও তীব্রতা চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ঠিক করা উচিত। ধূমপান ত্যাগ করা এবং শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখাও হাড়ের ক্ষয় রোধে সহায়ক।

    প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরা স্বাভাবিক ও নিরাপদ। এই একটি ঘটনা থেকেই আলিঙ্গনকে বিপজ্জনক ভাবার কোনো কারণ নেই। তবে বয়স্ক ব্যক্তি বা অস্টিওপোরোসিসের রোগী যাদের হাড়ের সুরক্ষা ঝুঁকি বেশি, তাদের ক্ষেত্রে একটু সচেতন হওয়া জরুরি। হঠাৎ করে কাউকে জোরে জড়িয়ে ধরা বা শরীর শূন্যে তুলে ফেলার মতো বিষয়গুলো পরিহার করা শ্রেয়।

    তীব্র বুকব্যথা, শ্বাস নিতে কষ্ট বা কাশি ও নড়াচড়ার সময় ব্যথা তীব্র হলে বিষয়টিকে সাধারণ পেশির টান ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। পাঁজরের হাড় ভাঙলে অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই এমন উপসর্গে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়। চিকিৎসার পর তাঁকে অস্ত্রোপচার ছাড়াই বিশ্রাম ও ওষুধের মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    নিজের শরীরের সংকেত বোঝা এবং হাড়ের যত্ন নেওয়া একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। কেবল ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট বা ওষুধের ওপর নির্ভর না করে সুষম জীবনযাপন ও চিকিৎসকের নিয়মিত পরামর্শই পারে অস্টিওপোরোসিসের মতো নীরব ঘাতক থেকে আমাদের রক্ষা করতে। ঘটনাটি ব্যতিক্রমী হলেও এটি মনে করিয়ে দেয়, শরীরের ভেতরে হাড়ের দুর্বলতা তৈরি হলেও অনেক সময় তা সহজে বোঝা যায় না।

  • ইরাকের উপকূলে অগ্নিকাণ্ডের কবলে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ

    ইরাকের উপকূলে অগ্নিকাণ্ডের কবলে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ

    ইরাকের আল-ফাও উপকূল থেকে ৬৩ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে একটি জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ইউকেএমটিও এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    আরও পড়ুন: আলিঙ্গনের চাপে ভাঙল পাঁজরের পাঁচটি হাড়, নেপথ্যে অস্টিওপোরোসিস

    আরও পড়ুন: টানা তৃতীয়বার বিশ্বের সেরা তরুণ ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল

    আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছ থেকে জাহাজটিতে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি জানতে পেরেছে সংস্থাটি। তবে এ ঘটনায় জাহাজের নাবিকদের বর্তমান পরিস্থিতি, কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে কিংবা পরিবেশের ওপর এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

  • টানা তৃতীয়বার বিশ্বের সেরা তরুণ ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল

    টানা তৃতীয়বার বিশ্বের সেরা তরুণ ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল

    বিশ্বের সেরা তরুণ ফুটবলার হিসেবে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেন লামিনে ইয়ামাল। ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর প্রদান অনুষ্ঠানে পুরুষদের তরুণ প্রতিভার এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতে নিলেন স্পেনের এই তরুণ তারকা। ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড টানা তৃতীয়বারের মতো এই স্বীকৃতি পেয়ে অনন্য এক কীর্তি গড়েছেন। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পর এবারও সেরার মুকুট ধরে রাখলেন বার্সেলোনার এই ফুটবলার। সোমবার লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে আয়োজিত এই জমকালো অনুষ্ঠানে ইউক্রেনের কিংবদন্তি ফুটবলার আন্দ্রি শেভচেঙ্কোর হাত থেকে তিনি পুরস্কারটি গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে আসা এই ডিফেন্ডারের প্রশংসাও করেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।

    আরও পড়ুন: ইরাকের উপকূলে অগ্নিকাণ্ডের কবলে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ

    ২০২৫–২৬ মৌসুমে ইয়ামালের পারফরম্যান্স ছিল অবিশ্বাস্য। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সেলোনার হয়ে ৪৫টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি, যেখানে তাঁর নামের পাশে গোল রয়েছে ২৪টি। শুধু গোল নয়, সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন আরও ১৮টি। তাঁর ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে বার্সেলোনা লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা জিতেছে। স্প্যানিশ লিগে তিনি ১৬টি গোল করার পাশাপাশি ১১টি অ্যাসিস্ট করে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতার তকমাও পেয়েছেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৫ ম্যাচে তাঁর গোল ২৪টি, সঙ্গে সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ১৮ গোল। স্প্যানিশ লিগে ১৬ গোলের পাশাপাশি ১১টি অ্যাসিস্ট করে প্রতিযোগিতাটির সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতাও হয়েছেন তিনি।

    আরও পড়ুন: জাপানে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের সফর

    পুরস্কার পাওয়ার পর বার্সেলোনা, জাতীয় দল স্পেন এবং ভক্তদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ইয়ামাল। ব্যক্তিগত এই সাফল্যের মুহূর্তে তিনি ভুলে যাননি সতীর্থ পাউ কুবারসির কথা। ইয়ামালের মতে, কুবারসিও এই পুরস্কার পাওয়ার জন্য যোগ্য ছিলেন এবং তিনি দীর্ঘ সময় ধরে দারুণ ফুটবল উপহার দিয়ে আসছেন।

    উল্লেখ্য, অনূর্ধ্ব-২১ বয়সী সেরা পুরুষ ফুটবলারকে ২০১৮ সাল থেকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যা আগে কোপা ট্রফি নামে পরিচিত ছিল। এর আগে বার্সেলোনার হয়ে ২০২১ সালে পেদ্রি এবং ২০২২ সালে গাভি এই ট্রফিটি জিতেছিলেন। ইয়ামালের টানা তিনবার এই পুরস্কার জয় নিশ্চিতভাবেই বিশ্ব ফুটবলে বার্সেলোনার অ্যাকাডেমি ও তরুণ প্রতিভার আধিপত্যকে আরও শক্তিশালী করল। ২০১৮ সালে চালু হওয়া এই পুরস্কারের নাম আগে ছিল কোপা ট্রফি।

  • জাপানে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের সফর

    জাপানে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের সফর

    বাংলাদেশ ও জাপানের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চার দিনের সরকারি সফরে জাপানে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে টোকিও’র নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান জাপানের নাকাসোনে ইয়াসুতাকা, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সঙ্গে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও। এসব সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন— অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ।

    বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রীকে সুসজ্জিত মোটর শোভাযাত্রা সহকারে নিয়ে যাওয়া হয় ঐতিহাসিক ইম্পেরিয়াল হোটেলে। জাপান সফরকালে প্রধানমন্ত্রী এবং তার সফরসঙ্গীরা এই হোটেলে অবস্থান করবেন। এর আগে সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে টোকিওর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। প্রধানমন্ত্রী ১৭ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গত বছরের ১২ই ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর বিদেশে এটি হচ্ছে তারেক রহমানের তৃতীয় সফর। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গত সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্ক সফর করেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ ও জাপানের সংবাদমাধ্যম এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই সফরকে প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফর হিসেবে বর্ণনা করছেন।

    আরও পড়ুন: টানা তৃতীয়বার বিশ্বের সেরা তরুণ ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল

    প্রথম দিনের সফরসূচি ও গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

    সফরের প্রথম দিনেই তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এবং দেশটির অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। এসব সাক্ষাতে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, জাপানি বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপানের সক্রিয় অংশগ্রহণ আরও জোরদার করার নানা সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হয়। একইসঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি, অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর অনুমোদন ও বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। উল্লেখ্য, গত ১১ই অক্টোবর ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসায়ুকি ওমোতোর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল।

    জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আয়োজিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের গভীর সম্পর্ক রক্ষায় ধারাবাহিক ভূমিকার জন্য তারো আসোকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ২০০৬ সালে জাপান সফরকালে বিএনপি’র তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন। তারো আসো সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা স্মরণ করেন। তারেক রহমান বলেন, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকালে তারো আসো বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে সব সময় ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছেন।

    আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৯৩ পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

    জাইকা প্রেসিডেন্টের সাথে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা

    একই দিনে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। টোকিওতে স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে আয়োজিত এই বৈঠকে মেগা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জাইকা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে তার ঢাকা সফরের চমৎকার অভিজ্ঞতা এবং ফলপ্রসূ আলোচনার বিষয়টি স্মরণ করেন। বাংলাদেশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির স্বার্থে জাইকার দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী গভীর কৃতজ্ঞতা জানান।

    • জাপানের বাণিজ্যিক সহায়তা ও কারিগরি সাহায্যে চলমান দেশের বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে বাস্তবায়নের জোর তাগিদ দেওয়া হয়।
    • বাংলাদেশের টেকসই আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি অর্জনে জাইকার পক্ষ থেকে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনরায় ব্যক্ত করা হয়।
    • জাপানি প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়াতে জাইকার ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রেস ব্রিফিং ও প্রস্তাবনা

    প্রথম দিনের বৈঠকগুলো শেষে টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাব্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সার্বিক তথ্য তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, দেশের সামগ্রিক টেকসই প্রবৃদ্ধির স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দক্ষতা উন্নয়নে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে জাপানি সহযোগিতা, উচ্চপ্রযুক্তির প্রযুক্তি নগরী ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনী নগরী প্রতিষ্ঠা এবং কৃষি খাতের দ্রুত আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। এ ছাড়া কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে ব্যাপক জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতেও জাপানের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক সুসম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা কাজে লাগানো, জাপানি ব্যবসায়ীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদন শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সার উৎপাদন খাতে জাপানের। নতুন সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে হালকা প্রকৌশল শিল্পেও বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

    জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক

    মঙ্গলবারে এই সফরের মূল আকর্ষণে পরিণত হয় জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক। টোকিওস্থ জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন তারেক রহমান। জাপানে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করা, বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষা করা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব প্রসারে দুই দেশের শীর্ষ নেতা একযোগে কাজ করার ঘোষণা দেন। দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ আলোচনা শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানার্থে আয়োজিত এক বিশেষ সরকারি মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

    সম্মানসূচক নৈশভোজ ও সংবর্ধনা

    প্রথম দিনের কর্মসূচির সমাপনী পর্বে জাপানের নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার আয়োজনে আয়োজিত বিশেষ নৈশভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের মন্ত্রী, উর্ধ্বতন উপদেষ্টা এবং বিশেষ সহকারীরা উপস্থিত ছিলেন। সফরের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় ভিত্তি লাভ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।